সুনামগঞ্জ , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে ছয় কারণে ব্যর্থ হল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধীদল ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি সব জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ক্যু’ শুরু করেছে : জামায়াত আমির ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না : বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে বিশিষ্টজনদের সাথে ভারতের মনিপাল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় শান্তিগঞ্জে বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ, স্বস্তিতে কৃষক সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ কাটতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ মধ্যনগর প্রধানমন্ত্রী সিলেট আসছেন ২ মে এগারো দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ কী সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিচারিক কাজকে আরো কার্যকরের আহ্বান পাথারিয়া ইউপি ভবন নির্ধারিত স্থানে বাস্তবায়নের দাবিতে সভা পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া বাঁধ রক্ষা করলেন হাজারো কৃষক গণশুনানিতে বদলাচ্ছে রাজনীতির ধরণ, আলোচনায় এমপি কামরুল জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে?

  • আপলোড সময় : ০৮-০৮-২০২৫ ০৮:০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৮-২০২৫ ০৮:০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে?
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকসার সংঘর্ষে দুই তরুণ শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি এই দেশের রক্তমাখা সড়ক-বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। গত ৬ আগস্ট দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অকালেই ঝরে গেলো তিনটি জীবন, যাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পরিবারের স্বপ্নের প্রতীক ছিলেন। নিহত আফসানা জাহান খুশি এবং ¯েœহা চক্রবর্তী - উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে উচ্চশিক্ষায় পথ চলা শুরু করেছিল। আর শফিকুল ইসলাম ছিলেন কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছানো একজন অভিজ্ঞ মানুষ। একটি অটোরিকসায় থাকা এই যাত্রীদের জীবনের গতি থেমে গেলো সড়কের অব্যবস্থাপনা, বেপরোয়া গতির বাস, ও দায়িত্বজ্ঞানহীন চালকদের কারণে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ তথ্য বলছে, সিলেটগামী বাসটি সোজা ধাক্কা দিয়েছে বিপরীতমুখী সিএনজিকে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকসাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু, আহত দুজনের একজন চালক - এ চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা সহজেই অনুমেয়। অথচ প্রতিবারের মতোই, চালক ও সহকারী দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়। এই দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে এমন সড়ক দুর্ঘটনা, যাতে নিহত ও আহত হচ্ছেন নিরীহ যাত্রীরা। এসব ঘটনার প্রায় সব কটিতেই জড়িত থাকে বেপরোয়া চালক, নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন এবং দায়হীন মালিকপক্ষ। অবাক করার বিষয় হচ্ছে- বারবার এত মৃত্যু ঘটলেও কার্যকর কোনো শাস্তি হয় না। আইন আছে, তবে প্রয়োগ নেই। মানবিক বোধের জায়গা থাকলেও নেই রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি। আমরা জোরালোভাবে বলতে চাই, এখন আর কেবল শোক প্রকাশে কিছু হবে না। এখন প্রয়োজন কঠোর ব্যবস্থা। প্রথমত, দুর্ঘটনায় দায়ী চালক ও মালিকপক্ষকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন দক্ষ চালকের লাইসেন্স প্রদান ও কঠোর নজরদারি। তৃতীয়ত, সড়কে যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহনের গতি সীমা বাস্তবায়নে প্রযুক্তি ব্যবহারসহ পুলিশের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। চতুর্থত, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে একটি দ্রুত বিচার ও সহায়তা সেল গঠন করতে হবে। পরিবারের কাছে হয়তো একমাত্র সন্তান ছিল আফসানা কিংবা ¯েœহা। আজ তারা নেই। এই ক্ষতিপূরণ শুধু আর্থিক নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় দায়। সড়কে মৃত্যু যেন নিয়তি না হয় - এ দাবি আমাদের সকলের। সুনামগঞ্জবাসীসহ দেশের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি: আর কত প্রাণ গেলে আপনারা জাগবেন?

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স